রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজানে ক্রয় মূল্যে বিক্রয়

ইফতার সামগ্রী ক্রয় করা মূল্যেই বিক্রয় করা হইবে আপনাদের আমন্ত্রণ করা হইল ক্রয় করার জন্য

Share:

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

"কর্জে হাছানা ট্রাস্ট" এর ১ম মাসিক সভা ২০২৫ইং ও মাসিক কর্জ হিসাব

আলোচনা সভা
আলোচনা সভার কার্যক্রম চলছে

আলোচনা সভা
আলোচনা সভার শেষের অংশে তোলা



কর্জে হাছানা ট্রাস্ট

চাঁনমারী বাজার, শিপইয়ার্ড, খুলনা সদর, খুলনা।
ইমেইল:korjotop@yahoo.com

কর্জে হাছানা কমিটির সভার কার্যবিবরণী

সভাপতি: জনাব হাফেজ মো: আবু সাইদ
(পরিচালক কর্জে হাছানা ট্রাস্ট ও পেশ ইমাম আল আমিন জামে মসজিদ)
চানমারী বাজার , শিপইয়ার্ড, খুলনা সদর, খুলনা।

তারিখ: ০১-১১-২০২৫ খ্রি:
সময়: বেলা ৫.০০ ঘটিকা

বিষয়ঃ কর্জে হাছানা ট্রাস্টের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

উপস্থিত :

সভাপতি মহোদয় উপস্থিত কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। অত:পর সভার আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনান্তে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহীত হয়।

আলোচ্যসূচি : ০১

আগামী দিন গুলির কার্যবিবরনী পাঠ ও অনুমোদন:

ক্র আলোচনা সিদ্ধান্ত বাস্তবা:
০১ কর্জে হাছানা ট্রাস্টের পরিচালক সভার শুরুতে আগামী দিন গুলির কার্যবিবরনী পাঠ করে শুনান যাহা অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেন। কর্জে হাছানা ট্রাস্টের সার্বিক বিষয়ে আমরা সকলে মিলে মিশে আগামী দিনের পরিকল্পনা গুলি ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কর্জে হাছানা ট্রাস্টের সদস্য বৃন্দ

সভায় আর কোন আলোচনা না থাকায় সভাপতি মহোদয় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সভাপতি: জনাব হাফেজ মো: আবু সাইদ
(পরিচালক কর্জে হাছানা ট্রাস্ট ও পেশ ইমাম আল আমিন জামে মসজিদ)
চানমারী বাজার, শিপইয়ার্ড, খুলনা সদর, খুলনা।

অনুলিপি সদয় জ্ঞাতার্থে:

০১.কর্জে হাছানা ট্রাস্টের সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দ
০২.কম্পিউটার নথি




এপ্রিল মাসের হিসাব

গ্রহীতার নাম তারিখ নেওয়া টাকা দেওয়া
মোঃ আবু সাইদ ০৭-০৪-২৫ ১০০০ ১৭-০৪-২৫
মোঃ আবুল কাশেম ২০-০৪-২৫ ২০০০ ০২-০৫-২৫

মে মাসের হিসাব

গ্রহীতার নাম তারিখ নেওয়া টাকা দেওয়া
মোঃ ডাঃ কবির ১০-০৫-২৫ ২০০০ ২০-০৫-২৫
মোঃ মিজানুর রহমান ২৫-০৫-২৫ ২০০০ ১০-০৬-২৫

আগস্ট মাসের হিসাব

গ্রহীতার নাম তারিখ নেওয়া টাকা দেওয়া
মোঃ এমদাদুল ১৫-০৮-২৫ ১০০০ ০১-০৯-২৫
মোঃ শাহআলম ২২-০৯-২৫ ৩০০০ ০৩-১০-২৫

অক্টোবর মাসের হিসাব

গ্রহীতার নাম তারিখ নেওয়া টাকা দেওয়া
মোঃ মিজানুর রহমান ১০-১০-২৫ ৫০০০ ২৫-১০-২৫
মোঃ এমদাদুল হক ১৯-১০-২৫ ১০০০ ০৪-১১-২৫
মোঃ হাবিবুর রহমান ২৩-১০-২৫ ২০০০ ২৬-১০-২৫

নভেম্বর মাসের হিসাব

গ্রহীতার নাম তারিখ নেওয়া টাকা দেওয়া
মোঃ রেজওয়ান ০১-১১-২৫ ৫০০০ ১০-১১-২৫
মোঃ রফিকুল ইসলাম ০১-১১-২৫ ১০০০ ১০-১১-২৫
মোট: ১১ জনকে কর্জ দেওয়া হল — ২৫,০০০/-
কর্জ দেওয়া: ৭,০০০/-
নগদ আছে: ২,৩৫০/-
Share:

সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সভার দাওয়াত

বিষয়ঃ কর্জে হাসানা ট্রাস্ট সদস্যদের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সভার দাওয়াত।
প্রিয় সদস্য,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমাদের “কর্জে হাসানা ট্রাস্ট” কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী শুক্রবার আসর নামাজের পর একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভাস্থলঃ আল আমিন জামে মসজিদ
আপনাকে এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আপনার উপস্থিতি ও মতামত আমাদের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর করবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উত্তম কাজে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন।
শুভেচ্ছান্তে,
কর্জে হাসানা ট্রাস্ট পরিচালক

👉 আমাদের সঙ্গে থাকুন, মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন, একসাথে গড়ে তুলুন একটি সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ।

Share:

রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

মানবতার কল্যাণে আপনাদের অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রেরণা। আপনারা যারা মাসিক সদস্য, এককালীন সদস্য, কিংবা দাতা সদস্য হতে আগ্রহী — তারা অনুগ্রহ করে পাশে থাকা “Join Now” বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ফরমটি পূরণ করুন।

👉 আমাদের সঙ্গে থাকুন, মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন, একসাথে গড়ে তুলুন একটি সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ।

Share:

বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

কর্জে হাসানা – মানুষের উপকারে লুকানো অনন্ত সৌভাগ্য

মানুষের উপকার করা
মানুষের উপকার করা মহৎ ইবাদত।

কর্জে হাসানা মানুষের উপকার করা

মানুষের উপকার করা শুধু একটি ভালো কাজ নয়; এটি হলো এক মহৎ ইবাদত। যিনি নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যের মঙ্গল কামনা করেন, তিনি প্রকৃত অর্থে একজন মুমিন। ইসলামে ‘কর্জে হাসানা’ বা উত্তম কাজকে বলা হয়েছে এমন এক বিনিয়োগ, যার লাভ আল্লাহ তাআলা নিজেই বহুগুণে ফেরত দেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে? তাহলে আল্লাহ তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৪৫)

এই আয়াতে ‘আল্লাহকে কর্জ দেওয়া’ বলতে বোঝানো হয়েছে — মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা, অসহায়দের সাহায্য করা এবং বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। অর্থাৎ, মানুষের সেবা করাই হচ্ছে কর্জে হাসানা।

কর্জে হাসানা – মুমিনের আসল পরিচয়

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — “মুমিনদের দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতির দিক থেকে তারা একটি দেহের মতো; দেহের একটি অঙ্গ কষ্ট পেলে পুরো দেহই ব্যথিত হয়।” (মুসলিম: ৬৪৮০)

অতএব, অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করে পাশে দাঁড়ানোই একজন সত্যিকারের মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কর্জে হাসানা মানে কেবল দান নয়; এটি হলো ভালোবাসা, সহানুভূতি, ও মানবতার দায়িত্ব পালন।

কর্জে হাসানার দুনিয়াবি পুরস্কার

যিনি মানুষকে সাহায্য করেন, তিনি কেবল পরকালের সওয়াবই পান না — বরং দুনিয়াতেও সৌভাগ্যময় জীবন ও শান্ত মৃত্যু লাভ করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — “সৎ কাজ মানুষকে মন্দ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে, গোপনে দান রবের ক্রোধ নেভায় এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা আয়ু বৃদ্ধি করে।” (সহিহুত তারগিব: ৮৯০) অতএব, কর্জে হাসানা শুধু আখেরাত নয়, দুনিয়াতেও প্রশান্তি ও নিরাপত্তা এনে দেয়।

কর্জে হাসানা – আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিছু বান্দাকে মানুষের উপকারের বিশেষ দায়িত্ব দেন। যতদিন তারা এই দায়িত্ব পালন করে, ততদিন তাদের মধ্যে সেই নিয়ামত থাকে। কিন্তু যখন তারা উপকার করা বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ সেই নিয়ামত অন্যদের দিয়ে দেন। “যে মুসলিম তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।” (বুখারি: ২৪৪২) তাই, যার হাতে সুযোগ আছে — সে যদি মানুষের উপকার না করে, তবে সে প্রকৃত অর্থে নিজের নিয়ামত হারানোর ঝুঁকিতে থাকে।

কর্জে হাসানা – মানবতার সর্বোচ্চ স্তর

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে — “দুর্ভিক্ষের দিনে এতিম আত্মীয়কে বা দরিদ্র নিঃস্বকে আহার দেওয়া, এটাই ঈমানের নিদর্শন।” (সূরা বালাদ: ১২–১৭) এই আয়াত আমাদের শেখায় যে মানবতার সেবা ঈমানেরই অংশ। তুমি যদি একজন ক্ষুধার্তকে খাওয়াও, একজন অসহায়কে সাহায্য করো, অথবা একটি বিপদগ্রস্ত প্রাণের পাশে দাঁড়াও — তাহলে তুমি আসলে ‘কর্জে হাসানা’র পথে হাঁটছো।

উপসংহার

মানুষের উপকার করতে পারা এক বিশাল সৌভাগ্য। এটি এমন এক নিয়ামত, যা কেবল নির্বাচিতদের ভাগ্যে জোটে। তাই আসুন — আমরা সবাই কর্জে হাসানার পথে এগিয়ে যাই। অসহায়দের পাশে দাঁড়াই, দান করি, দুঃখে থাকা মানুষদের হাসি ফিরিয়ে দিই। কারণ, মানুষের কল্যাণেই লুকিয়ে আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আমাদের দুনিয়া-আখেরাতের শান্তি।

“যে আল্লাহর পথে দান করে, তার জন্য রয়েছে বহুগুণ পুরস্কার এবং কোনো ভয় নেই, কোনো দুঃখ নেই।” (সূরা বাকারা: ২৭৪)

এখানে ক্লিক করুন আমাদের উদ্যোগে অংশ নিতে।

Share:

বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

আল্লাহর জিকিরের ১০টি উপকারিতা

হৃদয়ের কোমলতা ও জিকিরের ফজিলত
হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য জিকিরের গুরুত্ব

জিকিরের ১০ উপকারিতা

কখনো কখনো মানুষের হৃদয় শুষ্ক ভূমির মতো রুক্ষ হয়ে যায়, আবার কখনো হয়ে পড়ে পাথরের মতো কঠিন। তখন ভালো কথা ভালো লাগে না, ভালো কাজে মন বসে না। কারণ হৃদয়ের কঠোরতা মানুষকে আত্মিক প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত করে এবং মানসিক অস্থিরতা ও ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দেয়। এমন অবস্থায় আল্লাহর জিকিরই হৃদয়ের কোমলতা ফিরিয়ে আনার সর্বোত্তম উপায়।

কর্জে হাসানা মানবতার কল্যাণে সুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা

আল্লাহ তাআলা বলেন— “যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়, জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়।” (সুরা রাদ ১৩:২৮) আরেক স্থানে বলা হয়েছে— “যারা ঈমানদার, যখন তাদের সামনে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে।” (সুরা আনফাল ৮:২)

জিকিরের ফজিলতসমূহ

হাদিসে জিকিরের বহু ফজিলত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি নিচে দেওয়া হলো—

  1. অন্তরের মলিনতা দূর হয়: জিকির হৃদয়ের পাপ ও কালিমা মুছে ফেলে। (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ২/৩২৭)
  2. আল্লাহ প্রতিদান দেন: বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করলে আল্লাহও তাকে স্মরণ করেন। (মুসলিম ২৬৭৫)
  3. জিকিরবিহীন অন্তর মৃত: জিকিরহীন হৃদয় জীবিত নয় বরং মৃত। (বুখারি ৬৪০৭)
  4. কিয়ামতে আরশের ছায়া: গোপনে জিকিরকারীরা কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন। (বুখারি ৬৪৭৯)
  5. আল্লাহর রহমতে আচ্ছাদিত: জিকিরকারীদের ওপর রহমত ও প্রশান্তি নেমে আসে। (মুসলিম ৭০০)
  6. পরকালে মুক্তির উপায়: জিকির আজাব থেকে মুক্তির বড় উপায়। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ১৬৭৪৫)
  7. গুনাহ মাফ হয়: জিকিরের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং তা নেকিতে রূপান্তরিত হয়। (শুআবুল ঈমান ৫৩৪)
  8. শ্রেষ্ঠ আমল: জিকির আল্লাহর কাছে সোনাদানা খরচ ও জিহাদের চেয়েও উত্তম। (তিরমিজি ৩৩৭৫)
  9. আল্লাহর সান্নিধ্য: বান্দা যতক্ষণ জিকির করে, আল্লাহর রহমত তার সঙ্গে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ ১০৯৬৮)
  10. আফসোসের কারণ: দুনিয়ার সময় জিকির ছাড়া কাটানো হলে জান্নাতে তার জন্য আফসোস করতে হবে। (শুআবুল ঈমান ৫১২)

অতএব, জিকির শুধু মুখের উচ্চারণ নয়, এটি অন্তরের প্রশান্তি, গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। আমাদের সবার উচিত প্রতিদিন বেশি বেশি জিকির করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জিকিরের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি ও জান্নাতের পথ অর্জনের তাওফিক দান করুন।

এখানে ক্লিক করুন আমাদের উদ্যোগে অংশ নিতে।

Share:

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা | ইসলামে ঐক্য ও সম্প্রীতির গুরুত্ব

ইসলাম ও সমাজকল্যাণ
মানবতার কল্যাণে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা

মানুষ সামাজিক জীব। একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া মানুষ একদিনও চলতে পারে না। তাই সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম হচ্ছে সমাজকল্যাণমূলক ধর্ম। মানব কল্যাণ ও সমাজকল্যাণই ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কুরআনে আল্লাহ বলেন— “তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।” (সূরা মায়েদাহ ৫:২)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা, দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা, দ্বীন হচ্ছে কল্যাণকামিতা।” আরেক হাদীসে তিনি বলেছেন, “আল্লাহ বান্দার সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।”

ইয়াতীম প্রতিপালন

সমাজের সবচেয়ে অসহায় হলো ইয়াতীম শিশু। কুরআনে অসংখ্যবার ইয়াতীমদের যত্ন, সম্পদ রক্ষা, দয়া-মায়া ও স্নেহ প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন— “আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক জান্নাতে পাশাপাশি থাকব।”

বিধবাদের সহায়তা

দরিদ্র বিধবাদের সাহায্য করা ইসলামে ইবাদতের সমতুল্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন— “যে ব্যক্তি বিধবা ও অভাবীদের জন্য কাজ করে, সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদ করছে, অথবা সারারাত নামাজ পড়ছে আর সারাবছর রোজা রাখছে।”

অসহায়কে খাদ্যদান

ক্ষুধার্ত, নিঃস্ব ও অভাবীদের খাদ্যদান ইসলামের একটি বড় আমল। কুরআনে আল্লাহ বলেন— “তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীদের খাদ্য দেয় এবং বলে— আমরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের খাওয়াই, তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।” (সূরা দাহর ৭৬:৮-৯)।

অন্যদিকে যারা অভাবীদের খাওয়ায় না, কুরআনে তাদেরকে জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই সমাজকল্যাণমূলক কাজে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো— মানব কল্যাণে কাজ করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, দয়া-ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজকে শান্তি ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা।

মানবতার কল্যাণে আমাদের উদ্যোগে অংশ নিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

Share:

শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কর্জে হাসানা মানবতার কল্যাণে সুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা

কর্জে হাসানা
কর্জে হাসানা সুদমুক্ত মানবিক সহায়তা।

মানব সমাজে একজনের দুঃখ-কষ্টে অন্যজন এগিয়ে আসা একটি মহৎ গুণ। ইসলাম এমন একটি সুন্দর অর্থনৈতিক ধারণা দিয়েছে যা মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করার অনন্য উপায়—এটি হলো কর্জে হাসানা। কর্জে হাসানা মানে হলো কাউকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া, যাতে সে তার প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং পরবর্তীতে সামর্থ্য হলে ফেরত দিতে পারে।

কর্জে হাসানার মূল উদ্দেশ্য

  • দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সহায়তা করা
  • সমাজে দানশীলতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা
  • সুদের মতো শোষণমূলক প্রথা থেকে মুক্তি
  • আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

ইসলামে কর্জে হাসানার গুরুত্ব

“কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা দেবে, যাতে আল্লাহ তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেন।” (সূরা বাকারা: ২৪৫)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কর্জে হাসানা শুধু একজন মানুষকে সাহায্য করাই নয়, বরং এটি আখিরাতেও অগণিত পুরস্কার পাওয়ার উপায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “ইসরা-ও-মেরাজের রাতে আমি জান্নাতের দরজায় দেখলাম লেখা আছে: সদকা দশ গুণ, আর কর্জ (ঋণ) আঠারো (১৮) গুণ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে জিবরীল, কর্জ সদকার চাইতে উত্তম কেন? তিনি বললেন: কারণ ভিক্ষুক ভিক্ষা চায় যদিও তার কিছু থাকে, কিন্তু ঋণগ্রহীতা কেবল তখনই ঋণ গ্রহণ করে যখন সে প্রকৃতপক্ষে অভাবগ্রস্ত।” — (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৪৩১)

কর্জে হাসানার সামাজিক উপকারিতা

  1. দরিদ্রদের সম্মান রক্ষা করে – তারা সাহায্য নেওয়ার বদলে ঋণ নেয়, যা তাদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখে।
  2. সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে – ধনী-গরিবের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে।
  3. সুদের বোঝা থেকে মুক্ত রাখে – কেউ বাধ্য হয়ে সুদখোরদের হাতে পড়ে না।
  4. অর্থের সুষম বন্টন করে – যার কাছে অর্থ আছে সে অন্যের কাজে লাগাতে পারে।

কর্জে হাসানা দেয়ার নীতি

  • সুদ বা অতিরিক্ত কিছু দাবি করা যাবে না
  • ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া উচিত যদি সে দেরিতে ফেরত দিতে চায়
  • গোপনে দেওয়া উত্তম যাতে কারো সম্মানহানি না হয়
  • সত্যতা ও আস্থা বজায় রাখা জরুরি

আজকের সমাজে কর্জে হাসানা

বর্তমান সমাজে সুদের ফাঁদ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষ সামান্য প্রয়োজন মেটাতেও সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। কর্জে হাসানা ব্যবস্থা থাকলে অনেকে ঋণের চাপ ছাড়াই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাই পরিবার, সমাজ ও সংগঠনগুলোকে কর্জে হাসানা কার্যক্রম চালু করা উচিত।

উপসংহার

কর্জে হাসানা কেবল একটি আর্থিক সাহায্য নয়; এটি মানবতার প্রকৃত প্রকাশ। সমাজে যদি এ ধরনের সুদমুক্ত ঋণ ব্যবস্থা চালু হয়, তবে অভাবী মানুষ স্বস্তি পাবে এবং ধনী-গরিবের মধ্যে ভালোবাসা ও আস্থা তৈরি হবে। ইসলাম যে সুন্দর জীবনব্যবস্থা দিয়েছে, কর্জে হাসানা তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

মানবতার কল্যাণে আমাদের উদ্যোগে অংশ নিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

Share:

কর্জে হাসানার ফজিলত

আপনার আখেরাত 👇👇

সদস্য হতে ক্লিক করুন 👇👇

কর্জের জন্য আবেদন করুন 👇👇